শিরোনাম

ভারত থেকে আসছে ১ লাখ টন চাল

ঊষার বাণী ডেস্ক :
ভারতের ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমারস ফেডারেশন থেকে সরকার এক লাখ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ৩৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষকের উৎসাহ মূল্য দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রতি বোরো ও আমন মৌসুমে ধান চাল কিনে থাকে। কিন্তু ২০২০ মৌসুমে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৪.৪৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি আমন সংগ্রহ মৌসুমে ২ লাখ মেট্টিক টন ধান এবং ৬.৫০ লাখ মেট্টিক টন চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫২,২৭৬ মেট্টিক টন চাল ও৭,৫৬৭ মেট্টিক টন ধান সংগৃহীত হয়েছে।

সূত্র জানায়, বন্যা, অতি বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় আমফানসহ করোনা মহামারির কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যহত হওয়ায় বাজারে ধান ও চালের দাম উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখাসহ নিরাপত্তা মজুত সুসংসহত করার স্বার্থে চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের সরকারি মজুত বাড়িয়ে সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমদানির ক্ষেত্রে বহুবিধ উৎস থাকলে দ্রুত খাদ্যশস্য আমদানি করা সহজ হয় এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ দামে খাদ্যশস্য কেনা সম্ভব হয়। এই বিবেচনায় ভারতের ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমারস ফেডারেশন (এনসিসিএফ) সাড়া দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানির জন্য গত ২৪ জানুয়ারি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে এনসিসিএফ-এর প্রতিনিধিদলকে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে এনসিসিএফ-এর সঙ্গে গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের জিটুজি পদ্ধতিতে ক্রয় বিষয়ক নেগোসিয়েশন কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়।

সভায় জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানির চুক্তি নামার শর্ত এবং দাম নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে ভারত হতে ৮০,০০০ মেট্টিক টন নন বাসমতি সিদ্ধ চাল প্রতি মেট্টিক টন ৪৩৪ মার্কিন ডলার দরে সিআইএফ-এলও (কস্ট, ইন্সুরেন্স ফ্রেইট-লাইনার) টার্মে এবং সিপিটি (ক্যারেজ পেইড) টার্মে ৪২০ মার্কিন ডলার দরে সান্তাহার (বগুড়া) রেলযোগে ২০,০০০ মেট্টিক টন নন বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির হয় এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে একটি চুক্তি হয়।

ইতিমধ্যে এফওবি দাম প্রতি মেট্টিক টনে ২ মার্কিন ডলার বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি এফওবি মূল্য প্রতি মেট্টিক টন ৩৯৪ মার্কিন ডলার। প্রতিনিয়ত চালের বাজারে দাম বাড়ছে বিধায় ভারতের এনসিসিএফ থেকে সিআইএফ-এলও টার্মে প্রতি মেট্টিক টন ৪৩৪ মার্কিন ডলার দরে ৮০,০০০ মেট্টিক টন ও সিপিটি টার্মে রেলপথে প্রতি মেট্টিক টন ৪২০ মার্কিন ডলার দরে ২০,০০০ মেট্টিক টন মোট ১ লাখ মেট্টিক টন নন বাসমতি সিদ্ধ চাল (সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙ্গাদানা বিশিষ্ট) কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুসারে মজুদের পরিমাণ চাল ৫ লাখ ২১ হাজার মেট্টিক টন ও গম ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্টিক টন অর্থাৎ সর্বমোট ৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্টিক টন। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য দেশের চালের চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি এবং বর্তমান করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয় বিবেচনা করে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখাসহ নিরাপত্তা মজুত সুসংসহত করার স্বার্থে এক লাখ টন চাল সংগ্রহ করা জরুরি বলে মনে করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

Ad Widget

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *