
তরুণ স্থপতিদের কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, সরকার স্থাপত্য শিক্ষা ও স্থপতিদের পেশাকে উচ্চ মর্যাদায় মূল্যায়ন করে। দেশের তরুণ স্থপতিরা যেন নিজেদের মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গৃহীত নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এই রূপান্তর বাস্তবায়ন এবং বিশ্বমানের আইকনিক স্থাপনা নির্মাণে দেশের স্থপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণ স্থপতিদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছেন। তাঁদের জন্য দেশীয় শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি অর্জনের সুযোগ সহজ করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।
দেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্য নকশা প্রণয়নের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বাংলাদেশি স্থাপত্য ডিগ্রির বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ লক্ষ্যে ক্যানবেরা অ্যাকর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে আইএবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, স্টুডিও ও ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উন্নত করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। এ জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ ও বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইএবির সভাপতি স্থপতি প্রফেসর ড. শরীফ শামস ইমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন খান, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থপতি কেভিন বিংহ্যাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক, স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ এবং স্থপতি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম।