
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতের উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে 'গোপন বৈঠক' করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তবে এমন অভিযোগকে 'অসত্য ও আজগুবি' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার।
"এটা পুরোপুরিভাব অসত্য ও আজগুবি একটা দাবি। এ ধরনের বৈঠক করার প্রশ্নই আসে না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলমিয়া গোলাম পরওয়ার।
সোমবার ফেসবুকের এক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গত ১৬ই অক্টোবর ঢাকার বারিধারা এলাকায় ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়; বৈঠকে আরেক জামায়াত নেতা এটিএম মাছুমসহ মোট তিন জন অংশগ্রহণ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বৈঠকের বিষয়টি খোলাসা করবেন- দাবি করে তিনি লিখেছেন, "অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামীলীগকে সাথে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক!" সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে মর্মে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির যে মন্তব্য করেছেন, সেটি নিয়ে 'উদ্বেগ ও নিন্দা' জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার সংগঠন 'হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি' (এইচআরএসএস)।
একইসঙ্গে, আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে 'স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন' ব্যাখ্যা দাবি করছেন তারা।
সোমবার বিকেলে আলাদা বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে আসক এবং এইচআরএসএস।
"এ ধরনের বক্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের মূল নীতির পরিপন্থী। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাঁকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার অধিকার রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই," বলছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
আরেক বিবৃতিতে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও জীবনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেয়। তাই ‘ক্রসফায়ার’ কোনোভাবেই বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাকে সরকারি অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত করা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগজনক। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; তবে তা অবশ্যই আইনসম্মত প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার বিভাগের কর্তৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করতে হবে।"
আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে 'স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন' ব্যাখ্যা দাবি করে এইচআরএসএস বলছে, "সরকার কি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে অনুমোদনযোগ্য মনে করে, নাকি এটি আইজিপির ব্যক্তিগত বক্তব্য- তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত রাখার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রত্যাশা করছে এইচআরএসএস।"
উল্লেখ যে, সোমবার দুপুরে পুরনো ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মি. ফকির বলেন, "আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেটাই করব।”