
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে জাতীয় উন্নয়নে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় জোরালো সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমান সরকারের জাতি গঠন ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে জাপানের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে জাপান।
বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তাকাইচি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। তাঁদের নেতৃত্বে এ উদ্যোগকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে তাকাইচি বলেন, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ ও তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের অবস্থান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের স্বীকৃতি প্রদান এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি দেশটিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টি তারেক রহমান স্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা হবে।
শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রকাশিত দুই দেশের নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতিকে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন তাকাইচি। তিনি বলেন, অভিন্ন কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় দুই দেশ সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নেবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
দুই নেতার এই বৈঠক বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৌশলগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।