প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং
মাগুরায় সাকের হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ

মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি নিয়ে বেরিয়ে আসল পেছনের গল্প।
গত ০৬ অক্টোবর মাগুরার রামনগর এলাকা েথেকে গোল্ডেন লাইনের পরিবহন থেকে স্বর্ণবহনকারী মজিবুরকে পুলিশ পরিচয়ে নামিয়ে ১২-২৫জন লোক হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয় দেখিয়ে এবং মারপিঠ করে তার কাছে থাকা তেজাবি স্বর্ণ দন্ড ওজন ১৫০ ভরি, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এই ছিনতাই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন মাগুরায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেন, তারপর মূল ঝামেলা শুরু হয় স্বর্ণে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে। মারুফ এখানে সবার সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তিনি বলেন ছিনতাইকৃত স্বর্ন এর বার ৬টি ছিল এবং সেখান থেকে তিনি ৩টি বার ইনফরমারদের দিয়ে দেন এবং বাকী স্বর্ণ বাড়ি পিছনে লুকিয়ে ফেলেন।
এই প্রতারণা করার কারণে নিজের ভাগের অংশ নিয়ে নিহত সাকের হোসেন মারুফ হোসেন কে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। ০৭ অক্টোবর মাগুরা ট্রাক টার্মিনালে সন্ধ্যা টার দিকে সাকের হোসেন-গোলাম জাহিদ-রুবেল-মারুফ এই চারজনের মধ্যে একটি মিটিং হয় সোনার ভাগাভাগি নিয়ে। সেই মিটিং এ সাকের ও মারুফের মধ্যে বাকবিতন্ড হয়, যেহেতেু সাকের কে মারুফ কোন টাকা বা স্বর্ণ অংশীদারিত্ব দেয়নি সেকারনে সেদিন তাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রুপ নেয়। সাকের কে মারুফ গালিগালাজ করে, সেখানে গোলাম জাহিদ তাদেরকে নির্বিত করার চেষ্টা করে । এবং জাহিদ বলে নভেম্বর এর ১ তারিখ পারনান্দুয়ালী মাহফিলের পর আমরা বসে এটার একটা সমাধান করব। এবং মারুফকে জাহিদ বলে আপাতত সাকের কে কিছু টাকা প্রদান করার জন্য।
তার প্রেক্ষিতে ০৮ অক্টোবর মারুফ সাকেরকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু তাতে সাকের সন্তুষ্ট হয় না।
সাকেরের এর দাবি ছিল ছিনতাইকৃত স্বর্ন কতটুকু এবং কতটাকা ছিনতাই করা হয়েছে সেটা মারুফের কাছে দেখতে চাওয়া।
৫ লাখ টাকায় সাকের সন্তুষ্ট না হয়ে ক্রমাগত মারুফকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
পরবর্তী মারুফ হোসেন যোগাযোগ করে গোলাম জাহিদের সাথে এবং সাকেরের চাপ প্রয়োগ করার কথা জানায়। পরে তাদের পরিকল্পনায় ও যোগসাজসে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সাকেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবে। পরিকল্পনার একটি পর্যায়ে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে মারুফ হোসেন গোলাম জাহিদকে ২০ লাখ টাকা প্রদান করে এবং গোলাম জাহিদ ১২ অক্টোবর যমুনা ব্যাংক মাগুরা ব্রাঞ্চে ১৮ লাখ টাকা জমা করে।
এরপর তারা তাদের পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫.৩০ মিনিটে সাকের হোসেনকে মাগুরা বাস টার্মিনালে গুলি করে হত্যা করে।
মাগুরা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অত্র স্বর্ণ ডাকাতি মামলায় ০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-
১. জুয়েল হোসেন (৪৭)
২. তৌকির আহমেদ (২৫)
৩. ফরিদ মন্ডল ( ৫৯)
৪. মারুফা আক্তার (৩২)
৫. মিল্টন মোল্লা (৩৫)
৬. গোলাম জাহিদ (৪৫)
৭. মারুফ হোসেন (৪৪)
এবং হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় ০৬ জনকে-
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-
১. রনি শিকদার (৩৮)
২. শামীমা তাবাসসুম লুবনা (৩১)
৩. অনিমেষ মজুমদার ( ৫৫)
৪. মারুফ হোসেন (৪৪)
৫. বশির আলী (৩৫)
৬. গোলাম জাহিদ (৪৫)
এই মামলায় উদ্ধারকৃত আলামত-
১. বুলেট
২. খালি কার্তুজ
৩. ৫টি স্বর্ণের বার
উভয় মামলায় আসামী গোলাম জাহিদ ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে।
এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © দৈনিক ঊষারবাণী ২০২৬