দৈনিক ঊষারবাণী
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯:৩৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ভিউ: ৭২

দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন নুসরাতের মা

ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে রায় ঘোষণার পরও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে দাবি করে নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন নুসরাতের মা।শিরিন আক্তার বলেন, নুসরাতকে হত্যার পর অনেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। তিনি এ রায়ে সন্তুষ্ট বলেও জানান।

তবে রায়ের পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা চান তিনি।

দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, কামরুন নাহার মনি ও আরও একজন আসামি। সোমবার দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ধরে রায় পড়া হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা রায়ের মূল অংশ পড়ে শোনান।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাসে আসামি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় একই বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্ট এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করলে আপনি মন্তব্য করতে পারবেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিটি শিশুর শৈশব হোক নিরাপদ, ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত: ডা. জুব

1

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত

2

সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত

3

দুর্গাপূজার মণ্ডপে ‘ঘুমহীন প্রহরী’ হয়ে থাকবেন বিএনপির নেতাকর

4

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

5

ভারত থেকে দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ, ঢাকায়

6

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার - তথ্য ও সম্প্রচার প্

7

আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...

8

ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত

9

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

10

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ নিরাপত্ত

11

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

12

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে -আই

13

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

14

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

15

তরুণ স্থপতিদের কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সহায়তা দ

16

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

17

অপতথ্য প্রতিরোধে আইনের পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতা জরু

18

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান

19

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাব

20