আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রহরীর দায়িত্ব পালন করবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাঁরা ‘ঘুমহীন প্রহরী’র মতো সতর্ক থেকে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন এবং উৎসবে অংশ নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করবেন। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
রিজভী বলেন, নেতাকর্মীরা ঘুমহীন প্রহরীর মতো প্রতিটি পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি অত্যন্ত সচেতন এবং দলের নেতারা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য দলটি ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার খায়রুল কবির খোকন ও ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে দলের পক্ষ থেকে আগেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারও স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রিজভী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে নীলনকশা করা হচ্ছে বলে তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার মাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার, অপকীর্তি ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ছাড়াও দলের সাংগঠনিক বিষয় এবং ভবিষ্যতে সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী।
বৈঠকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বিএনপির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবামূলক দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছেন দলটির নেতারা। তবে মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে স্থানীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।
মন্তব্য করুন