৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগের গেজেট নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির বিষয়ে আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছিল। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, বিসিএস পরীক্ষা, নিয়োগ কিংবা অন্য কোনো সরকারি প্রক্রিয়ায় তার ভিত্তিতে বৈষম্য করা হবে না।
৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম না থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল টেস্টে উপস্থিত হননি বলে জানান মন্ত্রী। ফলে প্রকৃতপক্ষে প্রথম প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়টি নির্ধারিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রার্থীর আত্মাহুতির হুমকির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারই জারি করতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তিনি জানান, ৪৯তম বিসিএসের সার্ভিসে যোগদানের তারিখ আগামী ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে এখনো সময় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া চলমান।
কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতের রায় থাকলে যাচাই-বাছাইয়ে তার নিয়োগ আটকে যেতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের দণ্ড বহাল থাকলে বা আপিলের বিষয় নিষ্পত্তি না হলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হয়। অন্যথায় পরবর্তীতে সরকারি নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের পদধারী নেতা ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে—এমনটা মনে করার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি না করারও অনুরোধ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই; এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার বলতে পারবেন। দলীয় বিষয়েও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
হকারদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের বেকার করতে চায় না। হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও বিকল্প জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হলিডে মার্কেট চালুরও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে এখনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো বার্তা দেওয়ার বিষয় নেই। কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে, অভিযোগ গ্রহণ, মামলা, তদন্ত ও গ্রেপ্তারের মতো আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, কোনো কোনো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ১২ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে গত ছয়-সাত মাসে এমন কোনো ঘটনা দেখানো যাবে না, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেনি।
দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু ঘটনায় সাত দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। আবার ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ হওয়ার নজিরও রয়েছে।
মন্তব্য করুন