মো : জাহেদী আরমান
প্রকাশ : ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ভিউ: ২

বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি: সালাহউদ্দিন আহমদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং কারা এতে থাকবেন—তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে স্টাডি করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি গ্রহণ করতে চাই, যেটা বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও সদস্যদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই আসবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতামতও নেওয়া হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধানে রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাখার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে ‘সর্বশেষ অপশন’ হিসেবে না রাখাই ভালো হবে বলে কমিটি মনে করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ সহজে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারেন, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি হচ্ছে—মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদেরসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা।

তিনি বলেন, বিচার ত্বরান্বিত করতে সরকার আন্তরিক। বিচারপ্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে এবং নির্ধারিত আইন অনুযায়ী আদালত কাজ করবে। তদন্ত, প্রসিকিউশন ও অভিযোগ গঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কাজগুলো দ্রুততার সঙ্গে করা হবে বলেও জানান তিনি।

কমিটির বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৬৩ জন অংশ নেন। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন।

আলোচনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব আসে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি ও আইনগত জটিলতা নিরসন এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রিত অতিথিদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো কমিটির বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অতিথিরা জুলাই ও গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এসেছে।

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য করা আইনটি অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে আসিনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব আশা করছি। তাদের মতামত পাওয়ার পরই কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা অংশ নেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করলে আপনি মন্তব্য করতে পারবেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কমবে

1

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হব

2

অপতথ্য রোধে তরুণদের সচেতন হতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

3

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

4

আবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে কাজ করছে সরক

5

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

6

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

7

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

8

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাব

9

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

10

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

11

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

12

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

13

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

14

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

15

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

16

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

17

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান এ

18

সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্

19

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

20