দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এখন ফলাফলের অপেক্ষায়। সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
অনলাইনে ফল জানতে শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অথবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে।
ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রী বেশি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন।
বন্যায় পিছিয়েছিল কয়েকটি পরীক্ষা
গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
ফল প্রকাশের পর কোনো শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল না পেলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটলেও অনেকের জন্য শুরু হবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির নতুন প্রস্তুতি। এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আগামীকালের ফলাফলের দিকে।
মন্তব্য করুন