মো : জাহেদী আরমান
প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:৩৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ভিউ: ৪

জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।

আজ বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা ও সুবিধার ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদেরও স্মরণ করেন। জনগণের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমসাময়িক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও নিবিড়ভাবে জড়িত।

বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সতর্কতা ও দূরদর্শিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ এবং নিরাপত্তার প্রচলিত ধারণা বদলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভুল তথ্য, অপতথ্য ও সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি তৈরির অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে হবে। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের এই অভিজ্ঞতা নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। অনুষ্ঠানে কলেজের ফ্যাকাল্টি সদস্য, এনডিসি ও এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনা কর্মকর্তা, বিদেশি কোর্স সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) এবং বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশের ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন অংশগ্রহণ করছেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করলে আপনি মন্তব্য করতে পারবেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই-

1

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

2

আতপ চালের চাহিদা-ভোগের তথ্য সংগ্রহ করে খাদ্যনীতি প্রণয়নের আহ

3

যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের সাফল্য নিশ্চিত: রাষ্ট্রপত

4

আবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে কাজ করছে সরক

5

আধুনিক কৃষি বিষয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে —কৃষ

6

আগামীকাল উদ্বোধন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

7

আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা, দেশে চা

8

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কমবে

9

বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ নারীর স

10

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাব

11

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

12

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

13

আইপিইউ সম্মেলনে সফল অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পীকার

14

কোনো কারখানা বন্ধ হোক, কোনো শ্রমিক বেকার হোক—চায় না সরকার :

15

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

16

কূটনৈতিক তৎপরতায় মিলল তিন বছর, ২০২৯ পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের

17

দিয়াবাড়িতে স্বপ্নপুর আবাসনের নির্মাণকাজ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

18

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

19

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধান

20