আঞ্চলিক খাদ্যাভ্যাস ও চালের পছন্দ বিবেচনায় গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তাঁর মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চালের চাহিদা ও ভোগের ধরন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। তাই মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চালের চাহিদা ও ভোগের ধরন সম্পর্কে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়ন করা জরুরি। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতপ চালের ব্যবহার ও চাহিদা নিয়ে গবেষণা হলে কার্যকর খাদ্য পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলরুমে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট (এফপিএমইউ) আয়োজিত “A Study on the Consumption and Demand for Non-aromatic White Rice (Atap Chal) in Selected Areas of Bangladesh” শীর্ষক গবেষণার ইনসেপশন ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম বড় দায়িত্ব। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু খাদ্যের মজুদ নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রয়োজন, পছন্দ ও পুষ্টিগত চাহিদাকেও খাদ্য পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতপ চালের ব্যবহার দেখে আসছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে আতপ চালের ব্যবহার রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের বাইরে সারা দেশে আতপ চালের ভোগ ও চাহিদার প্রকৃত চিত্র জানা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আতপ ও সিদ্ধ চালের পুষ্টিগত পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী গবেষকদের কাছে জানতে চান, চাল অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা একাধিকবার সিদ্ধ করার ফলে এর পুষ্টিমান কতটা পরিবর্তিত হয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি বেশি সংরক্ষিত থাকে।
আলোচনায় উঠে আসে, চালের তুষ ও ভুসির স্তর অতিরিক্ত মসৃণকরণ বা পালিশের মাধ্যমে অপসারণ করা হলে ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে মিলিং ও পালিশের সময় বি-গ্রুপের কিছু ভিটামিনের পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে ধান সিদ্ধ বা পারবয়েলিংয়ের সময় ভুসি ও অঙ্কুরের কিছু পুষ্টি উপাদান চালের শাঁসে স্থানান্তরিত হওয়ায় সিদ্ধ চালে এসব পুষ্টি তুলনামূলকভাবে বেশি সংরক্ষিত থাকতে পারে।
তবে রান্নার সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করে তা ফেলে দিলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ক্ষতি হতে পারে। ফলে চালের পুষ্টিমান নির্ধারণে শুধু কতবার সিদ্ধ করা হয়েছে তা নয়, ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি, মিলিংয়ের মাত্রা এবং রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি। সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন এফপিএমইউ-এর মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান।
গবেষণার কনসেপ্ট নোট ও প্রাথমিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন এফপিএমইউ-এর সহযোগী গবেষণা পরিচালক মো. মাহিনুর ইসলাম।
ওয়ার্কশপে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা ও সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আলোচনায় আতপ চালের ভোগ, ভোক্তার পছন্দ, আঞ্চলিক চাহিদা, পুষ্টিমান এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় চালের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের চালের ভোগ ও চাহিদার সঠিক চিত্র জানা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলভেদে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও চালের পছন্দের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়নে সহায়ক হতে পারে।
মন্তব্য করুন