১৬ সেপ্টেম্বর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই দিন সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি আগেই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিশ্চিত করেছিল।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগে কয়েকটি ঘটনাকে সামনে আনা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, এসব ঘটনা এমনিতেই ঘটেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা যখন আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন কিছু ঘটনা ঘটানো হলো। ঘটনাগুলো এমনিতেই ঘটেছে, সেটা আমি মানবো না। আপনারা বুঝবেন, কেন এ কথা বলছি।”
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন রুমন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন।
রুমনের ভাষ্য, সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি আশা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অর্জন নিয়ে সংবাদ ও আলোচনা হবে। কিন্তু দেশে ফেরার পরপরই আরেকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও টকশোগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তিনি বলেন, “আশা করেছিলাম, দেশে ফেরার পর আমাদের সাফল্য নিয়ে সংবাদ হবে, আলোচনা হবে। কিন্তু তখনই আরেকটি ঘটনা ঘটলো। আমি লক্ষ্য করলাম, টক শোগুলোর বেশিরভাগেই সেটিকে ঘিরেই আলোচনা হয়েছে।”
আতিকুর রহমান রুমন আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিরোধিতাকারীরা হয়তো অতীতের মতো একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে এসব ঘটনা প্রকাশ করা হয়। পরে বড় অনলাইন পোর্টাল, সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সেগুলো প্রচারিত হওয়ায় বিষয়গুলো আরও বেশি মানুষের নজরে আসে।
সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি হলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া কঠিন—এমন বক্তব্য তুলে ধরতে একটি উদাহরণও দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, “একজন মানুষকে নদী পার হতে বলে, যদি তার হাত-পা বেঁধে দেই, তাহলে সে কি নদী পার হতে পারবে? আমিও তো তা পারব না।”
এ সময় সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি ‘সুন্দর ও সভ্য বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে চান এবং এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে রুমন গণমাধ্যমে ‘জোড়াতালির খবর’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগও তুলেছিলেন। বাসসের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, কিছু সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে খবর ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এবং সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন